ওলং চা এর ইতিহাস

ওলং চা এর ইতিহাস

ওলং চা এর ইতিহাস

ওলং চা একটি মনোরম সুবাসযুক্ত চা, একটি সুগন্ধযুক্ত ধরণের চা। যদিও এতে ক্যাফিন রয়েছে তবে এটি শরীরে একটি শিথিল প্রভাব ফেলে। ওলং চায়ে স্বাস্থ্যকর প্রচুর সুবিধা রয়েছে কারণ এতে সবুজ এবং কালো চা সংমিশ্রণ রয়েছে। এই চাটির উত্থান প্রায় 400 বছর আগে চীনে হয়েছিল।এটি একটি উত্তেজিত চা যা “আধা-সবুজ” ” চায়ের পাতাগুলি তাদের রঙ পরিবর্তন করতে শুরু করার সাথে সাথে ফার্মান্টেশন প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণেই এটি আধা-সবুজ হিসাবে বিবেচিত হয় কারণ পাতাগুলি কেবল আংশিকভাবে জারণযুক্ত। হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়তা ওলং চা হার্টজনিত রোগ থেকে মৃত্যুর ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করে। বিশেষত, করোনারি হার্টের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এই চা থেকে প্রচুর উপকৃত হতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে রোগীরা চা পান করেন তারা ধমনীগুলি সংকীর্ণ ও শক্ত করার অভিজ্ঞতা পাবেন না। ওলং চা ডাইস্লিপিডেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করতে পারে।

Oolong tea

চা প্লাজমা কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড বা উভয়ই প্রাথমিক বৃদ্ধি রোধ করতে পারে। যদি এই স্তরগুলি নিয়ন্ত্রিত না করা হয় তবে এটি ডিসলিপিডেমিয়ার বিকাশের দিকে পরিচালিত করতে পারে। এছাড়াও, চা হৃৎপিণ্ডের টিস্যুতে কোষের মৃত্যুকে আটকাতে পারে যা এটিকে হৃদয়বান্ধব পানীয় করে তোলে! এছাড়াও ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করে এবং নির্দিষ্ট ধরণের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে রক্ষা করতে পারে। ওলং চা নিয়মিত পানে শরীরে একটা ভাব আসে।

গ্রিন টি কোনটি ভালো?

গ্রিন টি কোনটি ভালো?

Everest Tea

আমাদের গ্রিনটি থেকে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া সম্ভব হয়না। কারণ আমরা গরম পানিতে গ্রিনটি ব্যাগ কিছুক্ষণ চুবিয়ে রেখেই তা পান করি। গ্রিনটি ব্যাগ ব্যবহার করাটা অনেক সহজ। গ্রিনটি এর পাতা স্বাদ, গন্ধ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। কেন গ্রিনটি ব্যাগ এর পরিবর্তে গ্রিনটি এর পাতা ব্যবহার করা উপকারী তা জেনে নিন আজকের ফিচারে।

ক্যাফেইন কনটেন্ট

গ্রিনটি এর পাতা প্যাকেটজাত করার জন্য বা টি ব্যাগে নেয়ার জন্য ছোট ছোট করে কাটা হয়। এই প্রক্রিয়ায় চা পাতা কিছুটা ক্যাফেইন হারায়। তাই স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আলগা চা পাতায় ক্যাফেইনের পরিমাণ বেশি থাকে। অর্গানিক গ্রিনটি এর পাতায় খুব কম রাসায়নিক ও কীটনাশক থাকে।

স্বাদ

টি ব্যাগের চাইতে চা পাতায় প্রসেসিং করা হয় কম। তাই গ্রিনটি ব্যাগের চেয়ে গ্রিনটি এর পাতায় স্বাদ অক্ষুন্ন থাকে বেশি। তবে সময়ের সাথে সাথে আলগা চা পাতার স্বাদও খারাপ হতে শুরু করে। মেশিনে কাটা পাতার চেয়ে হাতে কাটা পাতা কেনার চেষ্টা করুন।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

গ্রিনটি তে উপস্থিত ক্যাটেচিন সময়ের সাথে সাথে কমতে থাকে। গ্রিনটি এর আলগা পাতার চেয়ে গ্রিনটি ব্যাগ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় বলে এর ক্যাটেচিনের পরিমাণ কমতে থাকে। এছাড়াও আস্ত গ্রিনটি এর পাতায় ক্যাটেচিনের ঘনত্ব বেশি থাকে। টি ব্যাগ ও কিছুটা ক্যাটেচিন শোষণ করে নেয়। তাই বলা যায় যে, আলগা গ্রিনটি এর পাতা থেকে আপনি গ্রিনটি ব্যাগের চেয়ে বেশি ক্যাটেচিন পেতে পারেন।

পাতার বয়স

গ্রিনটি এর মানের উপর বিভিন্ন বিষয় প্রভাব ফেলে। সবচেয়ে ভালো মানের পাতাগুলো চা গাছের উপরের দিকে থাকে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, তরুণ গ্রিনটি এর অঙ্কুরে উচ্চমাত্রার থিয়ানিন এবং EGCG থাকে। থিয়ানিন প্রশান্ত হতে এবং মনোযোগী হতে সাহায্য করে। ইজিসিজি হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই এটা বলা বাহুল্য যে, গ্রিনটি ব্যাগের চেয়ে গ্রিনটি এর আলগা পাতায় উচ্চমানের পুষ্টিগুণ থাকে।

আলগা গ্রিনটি এর পাতা দিয়ে চা তৈরি করতে হয়তো আপনার একটু সময় বেশি লাগবে কিন্তু আপনি এর থেকে অনেক বেশি স্বাদ এবং অনেক বেশি ঔষধি উপকারিতা পেতে পারেন।

সূত্র: অ্যামাজিং গ্রিনটি ও দ্যা হেলথ সাইট।
৬টি পরামর্শ নিন হয়ে যান চা বিশেষজ্ঞ

৬টি পরামর্শ নিন হয়ে যান চা বিশেষজ্ঞ

 

Everest Tea

৬টি পরামর্শ নিন, হয়ে যান চা বিশেষজ্ঞ

পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়ের একটি চা। দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে এটি অভ্যাস হয়ে মিশে গেছে। গরম বা শীত, সকালে এক কাপ চা না খেলে দিনের শুরু হয় না, এমন মানুষের সংখ্যা গুনে শেষ করা যাবে না।

বিশ্বে ইংলিশরা চা নিয়ে বহু মাতামাতি করে। একে রীতিমতো ব্রিটেনের জাতীয় পানীয় বলে মন্তব্য করা হয়। সম্প্রতি ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি বিশেষজ্ঞ অ্যাডম বোল্টকে নিমন্ত্রণ করেন তাদের লন্ডনের রিজেন্টস স্ট্রিটের অফিসে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান চায়ের স্বাদ পরীক্ষাকারী লালিথ লেনাডোরা। সেখানে বোল্টকে চায়ের অপূর্ব স্বাদের গোপনীয়তা শিখিয়েছেন লালিথ।

১. ধরন : চায়ের মৌলিক কয়েকটি ধরন রয়েছে। ব্ল্যাক, হোয়াইট, গ্রিন এবং ওলং টি। সবগুলো ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস গাছ থেকে এসেছে। এই ৪ ধরনের চায়ের পার্থক্য জেনে নিন।

ক. হোয়াইট টি তৈরি হয় ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি ও অক্সিডাইজের মধ্য দিয়ে। এতে সবচেয়ে বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ন্যূনতম ক্যাফেইন থাকে। চা গাছের অঙ্কুর থেকে এটি তৈরি হয়।

খ. গ্রিন টি তৈরি হয় ফসল তোলার পর চা পাতাকে প্যানে ভেজে অথবা বাষ্পে ভিজিয়ে। এর স্বাদ অনন্য ও বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়ে থাকে। হোয়াইট টি থেকে এতে ক্যাফেইনের পরিমাণ বেশি থাকে।

গ. ব্ল্যাক টি ব্রিটেনে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। নানা প্রক্রিয়ায় পানের উপযোগী করা হয়। পাতা সংগ্রহের পর একে শুকিয়ে ফেলা হয়। ফার্মেন্টেশনও চলে। এতে গন্ধ বহুগুণ বেড়ে যায়। ক্যাফেইনসমৃদ্ধ হয় অন্যগুলোর চেয়ে। তবে একে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অনেক কম থাকে।

ঘ. ওলং চা চীন এবং বেশ কিছু মহলে বেশ জনপ্রিয়। চা পাতাকে হালকা অক্সিডাইজ করা হয়। ক্যাফেইনের পরিমাণ গ্রিন টি ও ব্ল্যাক টিয়ের মাঝামাঝি অবস্থায় থাকে। পাতাগুলো পেঁচানো অবস্থায় থাকে।

২. সঠিক প্রস্তুত প্রক্রিয়া : গরম পানিতে চা ফেলে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে মগে নেওয়া আর তাতে দুধ-চিনি দিয়ে উপভোগ করা। আর টি-ব্যাগ ব্যবহার করলে পরে দুধ-চিনি মিশ্রিত পানিতে পরে তা দিতে হয়। লালিথ বিভিন্ন ধরনের চায়ের ক্ষেত্রে পানিতে চা ফোটানোর নির্দিষ্ট নিয়মের কথা জানিয়েছেন।

ক. ব্ল্যাক টি বানানোর ক্ষেত্রে প্রতি কাপ চায়ের জন্যে ২-২.৫ গ্রাম চা পাতা দিতে হবে। একে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতে ৪-৫ মিনিট ফোটাতে হবে।

খ. হোয়াইট টিয়ের ক্ষেত্রে এক কাপ পানিতে ২.৫-৩ গ্রাম চা নিতে হবে। একে ৬৫-৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে দেড় মিনিট ফোটাতে হবে।

গ. গ্রিন টি বানাতে এক কাপের পানি ৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে নিয়ে তাতে ২.৫ গ্রাম চা ৩ মিনিট ধরে ফোটাতে হবে।

ঘ. ওলং চায়ের জন্যে এক কাপ পানি ৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় নিয়ে তাতে ২.৫ গ্রাম চা ৩ মিনিট ধরে ফোটাতে হবে।

৩. যেভাবে স্বাদ নিতে হবে : লালিথ জানান, হালকা একটা চুমুক দিতে হবে জিহ্ববার ব্যবহারে। দ্বিতীয় চুমুকে চা জিহ্বার নিচের অংশে নিয়ে পূর্ণ স্বাদ উপভোগ করুন। এতে জিহ্ববার স্বাদ গ্রহণকারী গ্রন্থিগুলো জেগে উঠবে। এবার পুরোদমে পান করে যান।

৪. গুণগত মান বজায় রাখুন : অনেক বড় ব্র্যান্ডের চা কম্পানি রয়েছে যারা পাতা সংগ্রহে বিশাল সব মেশিন ব্যবহার করে। অথচ চা গাছের কুঁড়ির সবচেয়ে ওপরের দুটো পাতাই সংগ্রহ করতে হয়। এতে হাতের ব্যবহারই সর্বোৎকৃষ্ট। তাই ভালো মানের চা খেতে হলে তার গুণগত মান সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।

# সংগৃহিত#

Pin It on Pinterest